ই-সিম কি? Esim এর সুবিধাসমূহ।

gg
fg

eSIM (Embedded Subscriber Identity Module) কি?

 

ই-সিম হলো এক নতুন ধরনের সিম প্রযুক্তি, যা প্রচলিত সিম ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে সক্ষম। তবে সিম এর মত ই-সিম রিমুভ করা যায়না, বা অন্য ফোনে প্রবেশ করানো যায়না। এটি সরাসরি ফোনের মধ্যে
এমবেডেড, অর্থাৎ যুক্ত থাকে।Esim ই সিম
ই-সিম এর মধ্যে থাকা তথ্য রি-রাইটেবল, অর্থাৎ পরিবর্তনযোগ্য। এর অর্থ হলো সিম পরিবর্তন করা ছাড়া বা নতুন সিম ব্যবহার ছাড়াই অপারেটর পরিবর্তন করা যাবে ই-সিম ব্যবহার করে। ই-সিমের এমনসুবিধার ফলে অদূর ভবিষ্যতে প্রচলিত সিমের প্রয়োজন থাকবেনা।
বর্তমানে ডুয়াল-সিম ফোনসমূহে অনেক ক্ষেত্রে সেকেন্ড সিম হিসেবে ই-সিম এর ব্যবহার শুরু হয়েছে।

 

ই-সিম এর সুবিধাসমূহঃ

ই-সিম এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর ফলে বেশ সহজে নেটওয়ার্ক অর্থাৎ মোবাইল অপারেটর পরিবর্তন সম্ভব। অপারেটর পরিবর্তন
করতে নতুন একটি সিম কিনে সেটি ফোনে প্রবেশ করানোর কোনো
প্রয়োজন হয়না। ই-সিম এর ক্ষেত্রে সিম ইজেক্টর টুল দিয়ে সিম রিমুভ
করে নতুন সিম ব্যবহার করতে হচ্ছেনা।
ই-সিম ব্যবহার করে এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে বেশ
সহজে সুইচ করা যাবে। একটি ই-সিমে একই সাথে কমবেশি ৫টি
ভার্চুয়াল সিম কার্ড এর তথ্য সংরক্ষণ সম্ভব। এর মানে হলো নেটওয়ার্ক
সিগনাল নেই এমন এলাকায় গেলে সকল সিম থেকে যে সিমের
নেটওয়ার্ক আছে, সে সিম ব্যবহার করা যাবে ই-সিম এর কল্যাণে।
বিশেষ করে ভ্রমণের সময় লোকাল নেটওয়ার্কে সুইচ করার
ব্যাপারটিকে সহজ করে দেয় ই-সিম। এই ক্ষেত্রে লোকাল সিমে সুইচ
করা যাবে ফিজিক্যাল সিম পরিবর্তন না করেই।
এক স্লটে একাধিক সিম ব্যবহারের পাশাপাশি ডুয়াল-সিম ফোনসমূহে ই-সিম এর সাথে চিরাচরিত সিম ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ একই
ফোনে একাধিক ফোন নাম্বার ব্যবহারের সুবিধা থাকছে ই-সিম ব্যবহার
করলেও। ব্যক্তিগত যোগাযোগে একটি ফোন নাম্বার ও ব্যবসায়িক
কাজে আলাদা একটি নাম্বার ব্যবহার করতে চাইলে এমন পরিস্থিতিতে
বেশ কাজে আসতে পারে ই-সিম।Smartphone
আবার সাধারণ সিম এর চেয়ে ই-সিম আকারে বেশ ছোটো, যার ফলে
ফোনে বাড়তি ফিজিক্যাল স্পেস পাওয়া যায়, আর এই স্পেস
স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারারগুলো ব্যাটারি সাইজ বাড়াতে বা নতুন
ফিচার যুক্ত করতে ব্যবহার করতে পারে। এছাড়াও ফোনে যত হোল
কম থাকবে, ফোন ধুলাবালি থেকে তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে।
স্মার্টফোনের সাইজ কমিয়ে আনার পাশাপাশি স্মার্টওয়াচ এর মতো
ছোটো আকারের ডিভাইসসমূহে ই-সিম এর ব্যবহার বেশ সুবিধাজনক
হতে পারে। ইতিমধ্যে অ্যাপল তাদের স্মার্টওয়াচ এর বিভিন্ন সিরিজে ই-সিম যুক্ত করেছে। স্যামসাং তাদের স্যামসাং গিয়ার এস২ ও স্যামসাং
গিয়ার এস৩ স্মার্টওয়াচে যুক্ত করেছে ই-সিম।

ই-সিম আছে যেসব ফোনেঃ
বর্তমানে কিছু নির্দিষ্ট স্মার্টফোন ও স্মার্টওয়াচে দেখা মিলবে ই-সিম
এর। এসব ডিভাইসসমূহ হলোঃ

• আইফোন ১৩ সিরিজ, আইফোন ১২সিরিজ, আইফোন ১০আর,
আইফোন ১০এস ও আইপ্যাড প্রো
• স্যামসাং এর গ্যালাক্সি এস২১ সিরিজ, এস২০ সিরিজ
• গুগলের গুগল পিক্সেল ৬ সিরিজ, পিক্সেল ৫ সিরিজ, পিক্সেল ৪
সিরিজ, পিক্সেল ৩ সিরিজ
• মটোরোলা রেজার (কোনো সিম ট্রে নেই, শুধু ই-সিম রয়েছে)
• স্যামসাং গিয়ার ডিভাইসসমূহ
• অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৬, সিরিজ ৫, সিরিজ ৪, সিরিজ ৩